মোঃ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
বিশেষ প্রতিনিধি।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার দুই দিনের ভারী বর্ষণে কৃষি জমির বীজতলা চিংড়ি মাছের ঘের পুকুর রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে ।
ভেঙে পড়েছে কাঁচা পাকা ঘর বাড়ি ।উপজেলার হাজার হাজার বসতবাড়ির উপর পানি উঠে গেছে, অনেকের বাড়ির মধ্যে, ঘরের মধ্যে ঢুকে গেছে পানি । গবাদিপশু হাঁস-মুরগী যত্রতত্র মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে । সুপ্রিয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বৃহত্তর উপজেলা একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিতে পানি প্রবেশ করেছে। এজন্য রোগীদের চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিতে পারছেনা হসপিটালে প্রবেশে রাস্তাটি পানির নিচে ডুবে আছে।
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের ইউপি সদস্য আলহাজ্ব হাফিজুর রহমানের সেজো ভাই অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে তার পারিবারিক গোরস্থানে পানির মধ্যে দাফন করতে হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদ চন্ডিপুর গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট অণুজীব বিজ্ঞানী ডক্টর আবু সিদ্দিকীর ছোট ভাই মোঃ শহিদুল ইসলাম ঢাকায় আশরাফ ইব্রাহিম ডায়াবেটিক হাসপাতাল ইন্তেকাল করেন।
উপজেলায় অতিবৃষ্টির ফলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে তাদের পারিবারিক গোরস্থান দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পারিবারিকভাবে তাই জনাব শহীদুল ইসলামের লাশ দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না । এমত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিমাগারে লাশ রাখা হয়েছে।
পানি নিষ্কাশন হলে দাফনের কাজ সম্পন্ন করবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
বৈশ্বিক মহামারী করোনা মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করার জায়গা টুকু নেই শ্যামনগরে সুপরিকল্পীত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সরকারের খালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার মানুষের এমনকি মৃত্যুর পর দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কর্তৃক 24 ঘন্টা মধ্যে খালগুলি হইতে নেট পাঠা তুলে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার পরও প্রভাবশালী দখলদারদের খুঁটির জোরে এখনো কোনো নেট পাঠা অপসারণ করে নাই।
এমনতো অবস্থায় সাধারণ মানুষ মনে করছেন মানবিক দিক বিবেচনা করে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে নেট পাটা অপসারণ করা না গেলে চরম বিপর্যয় দেখা দেবে। জনপ্রতিনিধিগণ অদৃশ্য কারণে নেট পাটা অপসারণে তারা কোন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের চোখে পড়ছে না বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন উপজেলার সচেতন নাগরিক।
Leave a Reply